রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমলনখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?মাটির নিচে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়বাংলাদেশিদের জন্য সউদীর নতুন প্যাকেজ ভিসা চালুঅবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
No icon

নিজের গ্রামের বাড়িতে গেলে কি কসর পড়তে হবে?

প্রশ্ন: আমি ঢাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকি বেশ কয়েক বছর ধরে। বাবা-মা গ্রামের বাড়িতে থাকেন। ঈদের ছুটি ও অন্যান্য ছুটির সময় কয়েক দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে গেলে আমি কি কসর পড়বো নাকি পূর্ণ নামাজ পড়বো? আমার স্ত্রী আমার গ্রামের বাড়িতে কসর করবে নাকি পূর্ণ নামাজ পড়বে?

উত্তর: আপনার গ্রামের বাড়ি আপনার স্থায়ী নিবাস। স্থায়ী নিবাসে গেলে কেউ মুসাফির গণ্য হয় না। তাই কয়েক দিনের জন্য গ্রামের বাড়িতে গেলেও আপনি মুসাফির হবেন না এবং নামাজ কসরও করবেন না, বরং পূর্ণ নামাজ পড়বেন।

কোনো নারী যদি বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে স্থায়ীভাবে বসবাস করা শুরু করেন, মাঝে মাঝে কিছুদিনের জন্য বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান, তাহলে স্বামীর স্থায়ী নিবাসই ওই বিবাহিত নারীর স্থায়ী নিবাস গণ্য হয়। তাই আপনার স্ত্রীও আপনার গ্রামের বাড়িতে মুসাফির নন, বরং মুকিম গণ্য হবেন এবং পূর্ণ নামাজ পড়বেন।তবে আপনার বাড়ি যদি ঢাকা থেকে সফর পরিমাণ (৭৮ কিলোমিটার প্রায়) দূরত্বে অবস্থিত হয়, তাহলে ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়ে যাওয়ার পথে আপনারা মুসাফির থাকবেন। অর্থাৎ ঢাকার বাসা থেকে রওয়ানা হয়ে ঢাকা ছাড়ার পর থেকে নিজের গ্রামে পৌঁছানো পর্যন্ত আপনারা মুসাফির থাকবেন এবং কসর নামাজ পড়বেন।

সফরে নামাজ কসর করার বিধান

সফরের ক্লান্তি ও কষ্ট বিবেচনা করে ইসলাম মুসাফিরদের শরিয়ত পালনে কিছু ছাড় দিয়েছে। যেমন রমজানের ফরজ রোজা মুসাফিররা চাইলে ভেঙে পরে কাজা করে নিতে পারেন, জুমার নামাজ ও কুরবানি মুসাফিরদের ওপর ওয়াজিব নয়। এ ছাড়া প্রতিদিনের চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাজগুলো অর্থাৎ জোহর, আসর ও ইশার নামাজ মুসাফিরদের জন্য আল্লাহ কসর বা সংক্ষীপ্ত করে দিয়েছেন। সফর অবস্থায় এ নামাজগুলো দুই রাকাত পড়তে হয়।

আল্লাহ সুবাহানাহু ওয়াতাআলা বলেন, যখন তোমরা দেশে-বিদেশে সফর কর, তখন নামাজ সংক্ষেপ করাতে দোষ নেই। (সুরা নিসা: ১০১)

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহ তাআলা তোমাদের নবির (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জবানে মুকিম অবস্থায় চার রাকাত ও সফর অবস্থায় দুই রাকাত নামাজ ফরজ করেছেন। (সহিহ মুসলিম: ৬৮৭)

মাগরিব ও ফজরে কসর নেই। এ দুই ওয়াক্তের ফরজ নামাজ যথাক্রমে তিন রাকাত ও দুই রাকাতই আদায় করতে হবে। ফরজ ছাড়া অন্য নামাজগুলো কসর হয় না। তাই সেগুলো আদায় করলে পরিপূর্ণভাবেই আদায় করতে হবে। বেতর তিন রাকাতই আদায় করতে হবে। তবে সুন্নাতে মুআক্কাদা নামাজ অর্থাৎ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজের সাথে প্রতিদিন যে বারো রাকাত সুন্নাত নামাজ আমরা আদায় করে থাকি, এগুলো সফর অবস্থায় আবশ্যক থাকে না। ক্লান্তি বা ব্যস্ততা থাকলে এই নামাজগুলো ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে। তবে সময় সুযোগ থাকলে পড়ে নেওয়াই উত্তম।