রিজিক বৃদ্ধির শ্রেষ্ঠ আমলনখ কাটার পর অজু না করে নামাজ পড়া যাবে?মাটির নিচে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়বাংলাদেশিদের জন্য সউদীর নতুন প্যাকেজ ভিসা চালুঅবশেষে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের নিহত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি
No icon

যে চার ধরনের মানুষ থেকে আশ্রয় চেয়েছিলেন নবীজি (সা.)

নবীজি (সা.) একটি দোয়ায় চার ধরনের মানুষের ক্ষতি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। আবু হোরায়রা (রা.) বলেন, নবীজির (সা.) দোয়াসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো এই দোয়াটি:

اللَّهُمَّ إنِّي أّعُوذُ بِكَ مِنْ جَارِ السُّوءِ، وَمِنْ زَوْجٍ تُشَيِّبُنِي قَبْلَ المَشِيبِ، وَمِنْ وَلَدٍ يَكُونُ عَليَّ رَبّاً، وَمِنْ مَالٍ يَكُونُ عَلَيَّ عَذَابَاً، وَمِنْ خَلِيْلٍ مَاكِرٍ عَيْنُهُ تَرَانِي، وَقَلْبُهُ يَرْعَانِي؛ إِنْ رَأَى حَسَنَةً دَفَنَهَا، وَإِذَا رَأَى سَيِّئَةً أَذَاعَهَا বাংলা উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জারিছ ছু-ই, ওয়া মিন যাওজিন তুশায়্যিবুনি কবল্যাল মাশিব, ওয়া মিন ওয়ালাদিন ইয়াকুনু আলাইয়্যা রব্বা, ওয়া মিন মালিন ইয়াকুনু আলাইয়্যা আজাবা, ওয়া মিন খলিলিন মাকিরিন আইনুহু তারা-নি ওয়া কলবুহু তারআ-নি, ইন রআ হাসানাতান দাফানাহা, ওয়া ইজা রআ সায়্যি আতান আজাআহা।

বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই খারাপ প্রতিবেশী থেকে; এমন জীবনসঙ্গী থেকে যে আমাকে বার্ধক্যে পৌঁছানোর আগেই বুড়ো করে দেয়; এমন সন্তান থেকে যে আমার ওপর প্রভুত্ব খাটায়; এমন সম্পদ থেকে যা আমার জন্য আজাব হয়ে দাঁড়ায়; এবং এমন ছলনাময়ী বন্ধু থেকে যার চোখ আমাকে দেখে কিন্তু মন আমার ক্ষতি খোঁজে, যে আমার কোনো ভালো গুণ দেখলে তা লুকিয়ে রাখে আর কোনো ত্রুটি বা মন্দ দেখলে তা রাষ্ট্র করে বেড়ায়। (কিতাবুদ-দুআ লিত-তাবরানি: ১৩৩৯)

এ দোয়ায় যে চার ধরনের মানুষের কথা বলা হয়েছে:

১. খারাপ প্রতিবেশী

প্রতিবেশীর সঙ্গে মানুষের প্রতিদিনের যোগাযোগ থাকে। প্রতিবেশী ভালো হলে তার প্রভাব যেমন জীবনে পড়ে, খারাপ প্রতিবেশীর আচরণও মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে অশান্ত করে তুলতে পারে। আর খারাপ প্রতিবেশী বলা হয় এমন প্রতিবেশীকে, যাদের কারণে মানুষ নিজের ঘরেও নিরাপদ ও স্বস্তিবোধ করতে পারে না। তাদের কষ্টদায়ক আচরণ, অন্যায় হস্তক্ষেপ কিংবা অনিষ্টের আশঙ্কা প্রতিবেশীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এ কারণেই নবীজি (সা.) খারাপ প্রতিবেশী থেকে আল্লাহর আশ্রয় চেয়েছেন।

২. যে জীবনসঙ্গী বার্ধক্যের আগেই বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়

দাম্পত্য জীবনের উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক শান্তি, ভালোবাসা ও সহযোগিতা। কিন্তু যখন দাম্পত্য সম্পর্ক অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখন তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। যে জীবনসঙ্গীর আচরণে মানুষ সব সময় কষ্ট পায়, যার কথাবার্তায় গালিগালাজ থাকে এবং যার ব্যাপারে নিজের সম্মান ও সম্পদ নিয়েও নিশ্চিন্ত থাকা যায় না এমন জীবনসঙ্গীর সঙ্গে থাকলে মানুষ একেবারে ভেঙে পড়ে, বয়স হওয়ার আগেই বুড়িয়ে যায়। এ কারণেই নবীজি (সা.) এমন জীবনসঙ্গী থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন, যে বার্ধক্য আসার আগেই বৃদ্ধ বানিয়ে দেয়।

৩. যে সন্তান মা-বাবার ওপর কর্তৃত্ব চালায়

সন্তান মা-বাবার জন্য আল্লাহর দেওয়া নেয়ামত। কিন্তু সেই সন্তান যদি অবাধ্য হয়ে মা-বাবার ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়, তাদের সঙ্গে যদি অপ্রত্যাশিত আচরণ করে, তাহলে সেই সন্তান মা-বাবার জন্য বড় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। নবীজি (সা.) এমন সন্তান থেকেও আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন। কোরআন মা-বাবার সঙ্গে উত্তম আচরণের নির্দেশ দিয়েছে এবং তাদের সামনে বিরক্তির সামান্য প্রকাশও নিষেধ করেছে। (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩) এর মাধ্যমে বোঝা যায়, সন্তানের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব যেমন আছে, তেমনই মা-বাবার প্রতি সন্তানেরও দায়িত্ব রয়েছে। সন্তান যখন সেই দায়িত্ব ভুলে গিয়ে মা-বাবার ওপর কর্তৃত্ব করতে চায়, তখন তা সম্পর্কের স্বাভাবিক চাহিদার বিপরীত হয়ে যায়, মা-বাবাকে নিজের ঘরেই অসহায় করে ফেলে।

৪. যে বন্ধু দোষ বলে বেড়ায়

এমন বন্ধু থেকেও নবীজি (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন যে বাইরে বন্ধুত্ব দেখায় কিন্তু অন্তরে অনিষ্ট কামনা করে। যে ভালো কাজ দেখলে তা গোপন রাখে, কিন্তু কোনো ভুল বা মন্দ কাজ দেখলে তা দশজনের কাছে বলে বেড়ায়। এমন মানুষ বন্ধুর পরিচয় বহন করলেও তার আচরণ বন্ধুত্বের বিপরীত। প্রকৃত বন্ধু মানুষের ভালো দিক প্রকাশ করে এবং ভুল হলে সংশোধনে সাহায্য করে। কিন্তু যে মানুষের ভালো গোপন করে আর মন্দ প্রচার করে, সে প্রকৃতপক্ষে শুভাকাঙ্ক্ষী নয়।কোরআন মুনাফিকদের একটি বৈশিষ্ট্য হিসেবে বলেছে, তারা মুমিনদের কোনো কল্যাণ হলে কষ্ট পায় আর কোনো অকল্যাণ হলে তাতে আনন্দিত হয়। (সুরা আলে ইমরান, ১২০) এমন বন্ধুও আচার-আচরণে মুনাফিকদের মতো।মানুষ সামাজিক জীব। মানুষের জীবনে অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক। একজন ভালো প্রতিবেশী, ভালো জীবনসঙ্গী, সৎ সন্তান কিংবা কল্যাণকামী বন্ধু জীবনের বড় স্বস্তির কারণ হতে পারে। আবার এসব সম্পর্কের মধ্যে অনিষ্টকর আচরণ ঢুকে পড়লে শান্তির জায়গাটিই অশান্ত হয়ে ওঠে।নবীজি (সা.) উপরোক্ত হাদিসে কেবল চার রকমের মানুষের অনিষ্ট থেকে বাঁচার দোয়া করেননি, বরং একই সাথে নিজের সম্পর্কগুলো নিয়ে সতর্ক ও যত্নবান থাকার শিক্ষাও দিয়েছেন। আমরা কেমন মানুষকে কাছে রাখছি, আর অন্যের কাছে আমরা কেমন মানুষ হয়ে উঠছি দুই দিকেই নজর রাখা প্রয়োজন।